বুধবার( ২৯ এপ্রিল) সকালে সেনা জোন পক্ষ থেকে এক নিরীহ অসহায় বিধবা মহিলাকে ঘর নির্মাণ জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন সেনা জোন।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনা জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদ পিএসসি।
এদিকে জোনের স্টাফ, অফিসার সকল সেনা সদস্যবৃন্দসহ ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়া সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার বান্দরবন পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার এক অসহায় বিধবা নারী কুলসুমা বেগম এর জীবনে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বান্দরবান সেনা জোন । দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করা এই নারী ভগ্নপ্রায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। তার জীবনে ছিল না কোনো নির্ভরতার স্থান, ছিল না সহায়তার মতো কোনো মানুষ—চারপাশে শুধুই অসহায়ত্ব আর বঞ্চনার গল্প।
ঝড়-বৃষ্টি এলেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটত তার। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও যখন নিরাপদ নয়, তখন প্রতিটি রাত তার কাছে ছিল আতঙ্কের। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতায় তিনি হয়ে পড়েন সম্পূর্ণ অসহায়—যেখানে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।
ঠিক এমন সময় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এগিয়ে আসে বান্দরবান সেনা জোন । বান্দরবান সেনাজোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল হুমায়ুন রশীদ, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেনা জোনের জোন কমান্ডার তত্ত্বাবধান ও মানবিক নেতৃত্বে অসহায় বিধবা এই নারীর জন্য ঘর নির্মাণ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যা তার জীবনে এক নতুন আশার দ্বার উন্মোচন করে।
এই সহায়তার ফলে তার নতুন ঘর র্নির্মাণ এর কাজ শুরু হবে, যার ফলে এই অসহায় বিধবা নারী শুধু একটি নিরাপদ আশ্রয়ই পাচ্ছে না—বরং ফিরিয়ে দিচ্ছে বেঁচে থাকার সাহস ও আত্মবিশ্বাস। একটি অসহায় নারীর জীবনে এমন সহায়তা নিঃসন্দেহে এক বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই নারী কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ ছিল না। আমি একেবারেই অসহায় ছিলাম। বান্দরবান সেনা জোন আমার জীবনে আলোর মতো এসেছে। তাদের এই সহায়তা আমি কখনো ভুলবো না।”
স্থানীয় এলাকাবাসীও বান্দরবান সেনা জোনের এই মহৎ উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসার সাথে গ্রহণ করেছেন। তারা মনে করেন, দেশের যেকোনো সংকটে যেমন সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে, তেমনি ব্যক্তিগত মানবিক সংকটেও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি পরিবারকে সহায়তা করেনি, বরং সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতার এক শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। বান্দরবান সেনাজোনের এই প্রশংসনীয় কার্যক্রম প্রমাণ করে—দেশের মানুষ যখনই বিপদে পড়ে, তখনই তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বাংলাদেশ সেনা জোন পক্ষ থেকে আরও বলা হয় যে,যেকোনো সংকটে আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দূর্গম পাহাড়ের প্রতিটি প্রান্তে আর্তপীড়িত মানুষের পাশে থেকে এ ধরনের জনকল্যানমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়ও জনগণ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।