আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬কে সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন—১১ বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ও ভোটকেন্দ্র—উভয় ক্ষেত্রেই কোনো ধরনের শিথিলতা থাকবে না।
নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চোরাচালান দমন, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধ এবং নির্বাচনকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে।
বিজিবি আরও জানায়, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে নির্বাচনকে ঘিরে সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট ও সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ পথগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দিন ও রাতব্যাপী টহল, মোবাইল প্যাট্রোল, কৌশলগত চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
এ সময় ১১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এসকেএম কপিল উদ্দিন কায়েস বলেন,
“নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় কোনো ধরনের শিথিলতা থাকবে না। সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা—দুটোই সমান গুরুত্ব দিয়ে বজায় রাখা হবে।”
বিজিবি সূত্র জানায়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে পূর্ণমাত্রায় মোতায়েন রয়েছে বাহিনী। দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য। এর অংশ হিসেবে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ৪৬টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২৬টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১০টি প্লাটুন মোতায়েন করেছে।
যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং কুইক রেসপন্স ফোর্স। নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় যাতে কোনো অপতৎপরতা প্রভাব ফেলতে না পারে—সে লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
বিজিবি আশা প্রকাশ করে জানায়, সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।