1. kazijewel.bban@gmail.com : বান্দরবান নিউজ : বান্দরবান নিউজ
  2. info@www.bandarbannews.com : বান্দরবান নিউজ :
শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বান্দরবান সদরস্থ কানা পাড়া পাহাড় সংলগ্ন হতে মাও শিশু মৃত্যুরদেহ উদ্ধার পাহাড়ের ধর্মীয় সম্প্রতি বিনষ্টের অপচেষ্টা?বিলাইছড়ির গুজব ঘটনায় সেনাক্যাম্পকে জরানোর নেপথ্যে কাহিনী ঈদুল ফিতর ও মাহাঃ সাংগ্রাই এর শুভেচ্ছা উপহার পেলো খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা বান্দরবানে সেনা উদ্যোগে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে গরীব নিরীহ অসহায় দুস্থ পরিবার মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ বান্দরবানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান,পূণ্যার্থীদের ঢল সেনা উদ্যোগে ৬৬ জনকে কমিউনিটি নার্সিং প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান দিয়ে সনদ প্রদান করেন রুমা’র জোন কমান্ডার বান্দরবানে শিশুদের হাঁসিতে ঈদ আনন্দ “মেহেদী রাঙা উৎসব ও ইফতার আয়োজন বান্দরবানে সেনা উদ্যোগে গরীব নিরীহ দুস্থ পরিবার মাঝে এমডিএস এ্যাম্বুলেন্স ৭ফিল্ড সার্বিক তত্বাবধানে বিনামূল্যে ফ্রী চিকিৎসাসেবা বান্দরবানে বাংলাদেশ অনুর্ধব -১৭ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বান্দরবানে কোরআন তেলওয়াত ও গজল প্রতিযোগিতা ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পাহাড়ের ধর্মীয় সম্প্রতি বিনষ্টের অপচেষ্টা?বিলাইছড়ির গুজব ঘটনায় সেনাক্যাম্পকে জরানোর নেপথ্যে কাহিনী

জমির উদ্দিন, বান্দরবান প্রতিনিধি :
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

 

বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। আমরা গর্ব করে বলি, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” এ দেশের মাটির প্রতিটি কণা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সাক্ষী। যদিও মুসলিমরা এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তবুও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বরাবরই সোচ্চার। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক আচরণে এই সম্প্রীতির চিত্র প্রতীয়মান।

বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অবস্থানের দিকে তাকালে আমরা এক বৈচিত্র্যময় চিত্র খুঁজে পাই। ২০২২ সালের আদমশুমারি ও সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৬১ শতাংশ থেকে ০.৬৩ শতাংশ। যদিও এটি একটি ক্ষুদ্র অংশ, তবুও বৌদ্ধধর্ম বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে সম্মানিত। এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রধানত চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করেন। হিন্দুধর্ম এ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম, যার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ (১৩.১ মিলিয়ন), যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা প্রায় ৪ থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

বিশ্বের অনেক দেশে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, দমন, ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং এমনকি উচ্ছেদ অভিযানের মতো ঘটনা ঘটায়, বাংলাদেশের চিত্র সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী এবং রাষ্ট্রযন্ত্র সর্বদা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সজাগ। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এটি আরও স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। রাষ্ট্র পাহাড়ের মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে, তা অনেক সময় দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সামগ্রিক ধর্মীয় বরাদ্দের চেয়েও বেশি। অনেকে মনে করেন এসব স্থাপনা হয়তো বিদেশিদের দানে নির্মিত, কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সরাসরি অর্থায়নে এখানে বিশাল ও রাজকীয় সব বৌদ্ধ বিহার নির্মিত হয়েছে। চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরের মতো বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোতে তাদের নিজস্ব ধর্মীয় স্থাপনা যতটা উন্নত ও চাকচিক্যময়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আন্তরিকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপনাগুলো তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি করা হয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতার এই উজ্জ্বল চিত্রের আড়ালে পার্বত্যাঞ্চলের কিছু বাস্তব ঘটনা এবং বিশেষ কিছু মহলের উগ্রবাদী প্রবণতা আমাদের গভীরভাবে চিন্তিত করে। আমরা লক্ষ্য করি, পাহাড়ের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। রাষ্ট্রের উদার নীতি এবং অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী এবং উগ্র সশস্ত্র সংগঠন পাহাড়ের আবহমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ উগ্র মনোভাব পোষণ করে এবং তাদের মধ্যেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। রাষ্ট্রের নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে এসব সশস্ত্র সংগঠন স্থানীয় মুসলিম বাঙালি জনগোষ্ঠী ও সেনাবাহিনীর ওপর সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।

সম্প্রতি রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত এবং ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করার মাধ্যমে সম্প্রীতি নষ্ট করার এক হীন প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য অনুযায়ী, ফারুয়া বাজার বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহার ও একুজ্জ্যাছড়ি আর্য বৌদ্ধ বিহার নামে তিনটি বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপনার নিয়মিতভাবে মাইকিং করে ধর্মীয় দেশনা ও বিভিন্ন বিষয়ে সবসময় মাইক চালু রাখা হয়। বিহারের অতি নিকটে থাকা সেনা ক্যাম্প ও বসবাসরত মুসলিম বাসিন্দাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সময় উচ্চ শব্দে দেশনা চলায় নামাজের একাগ্রতা বিঘ্নিত হয়।

এই বিষয়টি বিহারের কিছু সচেতন মানুষের নজরে আসার পর তাঁরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের উদ্যোগ নেন। তাঁরা চেয়েছিলেন প্রতিবেশীদের অধিকার রক্ষা করতে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে তাঁরা স্বপ্রণোদিত হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যার মাধ্যমে স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে গিয়ে নামাজের সময়সূচির একটি নোট তৈরি করেন। নোটটি একটি প্যাডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়:
* ফজর: ৫:০০ থেকে ৫:১৫ মিনিট (মাত্র ১৫ মিনিট সময়)
* যোহর: ১:০০ থেকে ১:৩০ মিনিট (মাত্র ৩০ মিনিট সময়)
* আসর: ৪:১৫ থেকে ৪:৪৫ মিনিট (মাত্র ৩০ মিনিট সময়)
* মাগরিব: ৫:৫৫ থেকে ৬:৩০ মিনিট (মাত্র ৩৫ মিনিট সময়)
* এশা: ৭:১৫ থেকে ৮:৪৫ মিনিট পর্যন্ত (দেড় ঘণ্টা)

এই নোটে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের কোনো স্বাক্ষর- সিলমোহর বা নির্দেশনা লেখা নেই৷ এটি ফারুয়ার সংশ্লিষ্ট বৌদ্ধ বিহারের পক্ষে আসা চেয়ারম্যানের লেখা নামাজের সময়সূচি মাত্র। তাহলে সেখানে এই নোটের জন্য সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা এবং সেনাবাহিনীকে বৌদ্ধ ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা কতটুকু যৌক্তিক?

বর্তমানে জেএসএস এর নির্দেশে ফারুয়া বাজার বৌদ্ধ বিহার, ফারুয়া শান্তিনিকেতন বৌদ্ধ বিহার ও একুজ্জ্যাছড়ি আর্য বৌদ্ধ বিহার অপ্রয়োজনে সর্বদা মাইক বাজিয়ে মুসলমানদের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বিহার কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং একজন মুসলিম বাঙালি জানায়, পবিত্র রমজান মাসে দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সামান্য কিছু সময় নামাজের চলাকালীন ফারুয়া আর্য্য বিহারের মাইক বন্ধ রেখে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করলে কারো কোনো ক্ষতি হবে না। রমজান শেষ হলে এশার নামাজের সময় আরও কমে ৪৫ মিনিটে চলে আসবে। এই উদ্যোগটি একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চমৎকার উদাহরণ হতে পারত।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগকে বিকৃত করার জন্য উগ্র সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সাইবার গ্রুপ তৎপর হয়ে ওঠে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্ত ভেঙে যারা অবৈধ অস্ত্র মজুত রেখে পাহাড়ে সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, তারা এই সাধারণ একটি নামাজের সময়সূচিকে কেন্দ্র করে ঘৃণ্য অপপ্রচার শুরু করে। ইউপি চেয়ারম্যানের প্যাডে লেখা সেই নামাজের নোটটি ‘জুম্মো আদিবাসী বার্তা’ নামক একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করে উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব ব্যক্ত করা হয়। পোস্টটিতে এমনভাবে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা স্রেফ গুজব এবং অধিকারের সীমা লঙ্ঘনকারী। সারা দেশে যেখানে আজানের সময় অন্যান্য ধর্মের উপাসনাগৃহের মাইক বন্ধ রাখা এক অলিখিত ও সুন্দর নিয়ম, সেখানে পাহাড়ে ঘৃণা ছড়ানোর জন্য এই মানবিক অনুরোধকে ‘সেনা নির্দেশ’ হিসেবে রঙ চড়ানো হয়েছে। ফেসবুক পোস্টটির হুবহু উদ্ধৃতি। উক্ত ফেসবুক পেজে গত ১৭ মার্চ পোস্ট করা লেখাটি নিম্নে হুবহু তুলে ধরা হলো:

“ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: ফারুয়ায় সেনা নির্দেশে নতুন বিতর্ক
জুম্মো আদিবাসী বার্তা
১৭ মার্চ ২০২৬
পাহাড়ে “নিরাপত্তা”র নামে যা চলছে, তা আর শুধুমাত্র নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেইএটি এখন সরাসরি মানুষের মৌলিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সহাবস্থানের উপর হস্তক্ষেপে পরিণত হয়েছে। ফারুয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বাস্তবতারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ, যা গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফারুয়া সেনাক্যাম্প থেকে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের ভান্তেদের উদ্দেশ্যে পাঠানো চিরকুটে নামাজের সময় সূত্রপাঠ বন্ধ রাখার নির্দেশএটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের শতবর্ষের ধর্মীয় চর্চার উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ। প্রশ্ন জাগেযেখানে বছরের পর বছর শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুশীলন চলে আসছে, সেখানে হঠাৎ করে এমন একতরফা নির্দেশের প্রয়োজন হলো কেন? কোথায় ছিল সেই তথাকথিত “সমস্যা”র প্রমাণ?

যদি সত্যিই কোনো অসুবিধা থেকে থাকে, তাহলে তার সমাধান ছিল আলোচনার মাধ্যমেস্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিভিল প্রশাসন এবং উভয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে একটি ন্যায়সংগত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। কিন্তু সেই পথ পরিহার করে সরাসরি সেনা নির্দেশ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরও অবমাননা।

এ ধরনের আচরণ পাহাড়ের বহুদিনের সামাজিক সম্প্রীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এটি এমন একটি বার্তা দেয়যেখানে মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার জায়গায় অবিশ্বাস ও নিয়ন্ত্রণকে প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায় নয়, পুরো অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হুমকির মুখে পড়ে।

পাহাড়ের মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেতারা সংঘাত নয়, সহাবস্থান চায়; বিভাজন নয়, সম্প্রীতি চায়। কিন্তু এভাবে কৃত্রিমভাবে নতুন ইস্যু তৈরি করে উত্তেজনা ছড়ানো হলে, তা কোনোভাবেই স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে পারে না। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সংকট তৈরি করবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা কোনো দয়া নয়এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারকে সংকুচিত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ এবং ন্যায্য প্রক্রিয়ার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে এবং অবিলম্বে এ ধরনের একতরফা, অযৌক্তিক নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে। পাহাড়ের মানুষ নিয়ন্ত্রণ নয়সম্মান চায়, অধিকার চায়, এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চয়তা চায়।”

পাহাড়ে শান্তির শত্রু কারা?
‘জুম্মো আদিবাসী বার্তা’র এই পোস্টটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাস্তব সত্য হলো, বিহারের সচেতন ব্যক্তিরা নিজেরাই সম্প্রীতির স্বার্থে এই নোটটি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো একে ‘সেনা হস্তক্ষেপ’ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ উপজাতিদের ক্ষিপ্ত করে তুলছে এবং দেশ-বিদেশে বৌদ্ধ ধর্ম পালনে বাধা প্রচার করে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে প্রশ্নের মুখামুখি করা। স্থানীয়রা বলছেন, তাদের লক্ষ্য হলো মুসলমানদের ওপর ঘৃণা ছড়ানো এবং দাঙ্গা সদৃশ পরিবেশ তৈরি করা।

পাহাড়ের মানুষ শান্তি চায়, কিন্তু জেএসএস এর মতো উগ্র সংগঠনগুলো তাদের সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে। রাষ্ট্র যেখানে বৌদ্ধ প্রধান দেশগুলোর চেয়েও উন্নত স্থাপনা নিজস্ব অর্থায়নে পাহাড়ে তৈরি করে দিচ্ছে, সেখানে এমন উস্কানিমূলক আচরণ চরম ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়। পাহাড়ের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য এ ধরণের গুজব এবং সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানো বন্ধ করা অপরিহার্য। ধর্মীয় স্বাধীনতা মানে অন্যকে বিঘ্নিত করা নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সাথে নিজ নিজ ধর্ম পালন করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট