আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সারাদেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ব্যালট পেপার মুদ্রণ বিতরণ ভোট কেন্দ্রতে পাঠানোর কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে কমিশন। আজ বুধবার (১১ফেব্রুয়ারি) সকালে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁদের কার্যালয় থেকে প্রতিটি আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের (এআরও) কাছে এই ব্যালট পেপার বিতরণ শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আজ থেকেই আসনওয়ারী ব্যালট বিতরণের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই শুরু হয়েছিল এই বিশাল মুদ্রণ যজ্ঞ।
নির্বাচন কমিশনের ব্যালট বিতরণ শাখা জানিয়েছে, সর্বশেষ বুধবার ১১ফেব্রয়ারি একটি বাদে প্রায় সব আসনের ব্যালট জেলা, উপজেলাসহ ইউনিয়ন গুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। আজ বুধবার সকালে অবশিষ্ট ব্যালটগুলো পাঠানোর মধ্য দিয়ে বিতরণের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট বিতরণ শাখার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা সুলতানা খান হীরা মনি জানান, মুদ্রণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসনভিত্তিক ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বুঝে নিয়েছেন। এখন তারা সুবিধামতো প্রতিটি আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচনী পরিকল্পনা অনুযায়ী, অদ্য ১১ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী বুঝে নিয়ে বিকেলের মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
এবারের নির্বাচনের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো পোস্টাল ব্যালটের কার্যকর প্রয়োগ। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা, কারাবন্দী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য আধুনিক অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদানের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ইতিমধ্যেই ৩ লাখ ৯ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট বিদেশের ডাকঘর ও বিভিন্ন মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দপ্তরে এসে পৌঁছেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির সফল বাস্তবায়ন প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাগণ জানিয়েছেন, তাঁর জেলার সকল আসনের ব্যালট পেপার ইতিমধ্যে হস্তগত হয়েছে। আজ বুধবার থেকেই তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব ব্যালট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছেন। উল্লেখ্য যে, যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন, তাঁদের নাম সম্পূরক তালিকায় রাখা হয়েছে এবং কেন্দ্রে গিয়ে সরাসরি ভোট দেবেন এমন ১২ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটারের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট মুদ্রণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করছে, সময়মতো ব্যালট মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে একটি সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। বর্তমানে দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া পাহারায় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী সংরক্ষণের কাজ চলছে।