বান্দরবানে রোয়াংছড়ি উপজেলায় আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ জনকে মানবিক সহায়তা প্রদান

মো.তুহিন হোসাইন,বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর আলেক্ষ্যং ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ জনের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এ মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
সোমবার (০২ নভেম্বর ) ৪ নম্বর আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ও গ্রাউসের বাস্তবায়নে রোয়াংছড়ি উপজেলা টাউন হলে এ সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের সরকার (The Government of the Hong Kong Special Administrative Region)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারহান ফাইয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো.হুমায়ূন কবীর।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, বান্দরবান জেলার সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, এডিপি ম্যানেজার প্রকাশ চাম্বুগং,হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ডাইরেক্টর অমর শান্তি চাকমা,ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ প্রোগ্রাম ম্যানেজার উসাইম্যা মার্মাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ জনের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে প্রতিটি সহায়তা প্যাকেজে রাখা হয় হাত ধোয়ার জন্য ঢাকনাসহ ২০ লিটারের একটি বালতি, ১০ লিটারের একটি পানির পাত্র বা জারিকেন, দেড় লিটারের একটি প্লাস্টিকের মগ, ১৫০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি গোসলের সাবান, এক বক্স খাবার স্যালাইন, ৫০০ মিলিলিটারের একটি অ্যান্টিসেপটিক জীবাণুনাশক এবং ৫০০ গ্রামের দুটি কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট পাউডারের প্যাকেট। এ ছাড়া নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পাঁচটি করে স্যানিটারি প্যাডের চারটি প্যাকেট এবং স্বাস্থ্যবিধি, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় আচরণবিধি সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগবিষয়ক লিফলেট দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রত্যেককে ৪০ কেজি চাল, ১০ কেজি মসুর ডাল, চার লিটার ভোজ্যতেল, দুই কেজি চিড়া, এক কেজি লবণ এবং দুই কেজি চিনি দেওয়া হয়। পণ্যগুলো বহন ও সংরক্ষণের সুবিধার্থে প্যাকেজিংয়ের জন্য তিনটি পাটের ব্যাগও সরবরাহ করা হয়।
বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সহায়তা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার কারণে অনেক পরিবার খাদ্যসংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার উপকরণ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক হবে।
তারা আরও বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নিরাপদ পানি ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা জরুরি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম দুর্গত মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।








