সেনাবাহিনী কর্তৃক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার(২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার সময় বান্দরবান সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে এবং ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের প্রশিক্ষণ কনফারেন্স হলে সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরফরাজ হায়দার, এমপিএইচ,ডিটিএমএন্ডএইচ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা এবং সেনাদের স্টাফ অফিসারবৃন্দ।
গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে আয়োজিত ০৩ (তিন) সপ্তাহব্যাপী ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই যুগান্তকারী উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
বান্দরবান জেলা বাংলাদেশের একটি দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চল, যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত এবং অনেক পাড়া মূল জনপদ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। দুর্গম পাহাড়ি পথ, দীর্ঘ দূরত্ব ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে এসব এলাকার জনগণের জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের সময়মতো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় সাধারণ রোগও অনেক সময় প্রাণঘাতী রূপ ধারণ করে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের নিরাপদ মাতৃত্ব, গর্ভকালীন পরিচর্যা, প্রসবকালীন ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং নবজাতকের প্রাথমিক পরিচর্যার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা মা ও শিশুর জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
এই বাস্তবায়নযোগ্য ও মানবিক সংকট অনুধাবন করে বান্দরবান সেনা রিজিয়ন একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির আওতায় বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ বিভিন্ন পাড়া থেকে নির্বাচিত ১৬ জন উপজাতি ও বাঙালি নারী অত্যন্ত আগ্রহের সাথে এই ৩ সপ্তাহব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন তাঁদেরকে নিরাপদ প্রসব পরিচালনা, গর্ভকালীন ও প্রসবোত্তর পরিচর্যা, নবজাতকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে ব্যবহারিক ও তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে নিজ নিজ এলাকায় গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা আরও সুদৃঢ় হবে।
সেনাবাহিনীর এই মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ভবিষ্যতে বান্দরবানসহ দেশের অন্যান্য দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের চিকিৎসাবঞ্চিত জনপদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে একটি অত্যন্ত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।






