বান্দরবান শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে পরিদর্কশন করেন সেক্টর দপ্তর বিজিবি কমান্ডার

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শেয়ার করুন:

নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সেক্টর সদর দপ্তর, বান্দরবান এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম

শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে তাঁদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টা ১২টি প্লাটুন দ্বারা টহলের সাহায্যে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজরদারি এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে বান্দরবান সেক্টর সদর এবং অধীনস্থ ০৩টি ব্যাটালিয়নের (রুমা ব্যাটালিয়ন-৯ বিজিবি, বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন-৩৮ বিজিবি এবং আলীকদম ব্যাটালিয়ন-৫৭ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ০৯টি পূজামণ্ডপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলার লক্ষ্যে ০৬টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।। পাশাপাশি নিয়মিত টহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হতে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। সেক্টর সদর দপ্তর, বান্দরবান এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবির মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বান্দরবান জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে। এছাড়াও পুজামন্ডপ সমূহের নিরাপত্তায় টহলের সময় বডি অন ক্যামেরার ব্যবহার এর পাশাপাশি বিজিবি ডগ স্কোয়াড এবং মাইন সুইপিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সবার প্রতি আমার আহ্বান—গুজবে কান দেবেন না, যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার করবেন না এবং সন্দেহজনক কোনো বিষয় নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করুন।

বিজিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তোলা সম্ভব।

সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল ভাইবোনকে জানাই শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা। সবার জীবন আনন্দ, শান্তি ও সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ হোক।